• মূলপাতা
  • ইতিহাস
    • ইসলামিক ইতিহাস
    • ভারতবর্ষের ইতিহাস
    • বিশ্ব ইতিহাস
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • খ্রিস্টান
    • হিন্দু
    • ইহুদী
    • অন্যান্য ধর্ম
  • নাস্তিকতা
  • রাজনীতি
  • সিনেমা
  • সাহিত্য
    • কবিতা
    • ছোটগল্প
    • উপন্যাস
    • সাহিত্য আলোচনা
  • অন্যান্য
  • ই-ম্যাগাজিন
    • নবজাগরণ (ষাণ্মাসিক) – জীবনানন্দ ১২৫ তম জন্ম সংখ্যা – মননশীল সাহিত্য পত্রিকা
  • Others Language
    • English
    • Urdu
    • Hindi
Sunday, September 13, 2026
নবজাগরণ
  • মূলপাতা
  • ইতিহাস
    • ইসলামিক ইতিহাস
    • ভারতবর্ষের ইতিহাস
    • বিশ্ব ইতিহাস
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • খ্রিস্টান
    • হিন্দু
    • ইহুদী
    • অন্যান্য ধর্ম
  • নাস্তিকতা
  • রাজনীতি
  • সিনেমা
  • সাহিত্য
    • কবিতা
    • ছোটগল্প
    • উপন্যাস
    • সাহিত্য আলোচনা
  • অন্যান্য
  • ই-ম্যাগাজিন
    • নবজাগরণ (ষাণ্মাসিক) – জীবনানন্দ ১২৫ তম জন্ম সংখ্যা – মননশীল সাহিত্য পত্রিকা
  • Others Language
    • English
    • Urdu
    • Hindi
No Result
View All Result
নবজাগরণ - জ্ঞান অর্জনের বিস্বস্থ সংস্থা
  • মূলপাতা
  • ইতিহাস
    • ইসলামিক ইতিহাস
    • ভারতবর্ষের ইতিহাস
    • বিশ্ব ইতিহাস
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • খ্রিস্টান
    • হিন্দু
    • ইহুদী
    • অন্যান্য ধর্ম
  • নাস্তিকতা
  • রাজনীতি
  • সিনেমা
  • সাহিত্য
    • কবিতা
    • ছোটগল্প
    • উপন্যাস
    • সাহিত্য আলোচনা
  • অন্যান্য
  • ই-ম্যাগাজিন
    • নবজাগরণ (ষাণ্মাসিক) – জীবনানন্দ ১২৫ তম জন্ম সংখ্যা – মননশীল সাহিত্য পত্রিকা
  • Others Language
    • English
    • Urdu
    • Hindi
No Result
View All Result
নবজাগরণ - জ্ঞান অর্জনের বিস্বস্থ সংস্থা
No Result
View All Result

উমর খালিদ মামলা এবং বিচারের অপেক্ষায় বিচারব্যবস্থা

মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম by মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম
September 12, 2026
in রাজনীতি
0
উমর খালিদ মামলা এবং বিচারের অপেক্ষায় বিচারব্যবস্থা

চিত্রঃ উমার খালিদ, ইমেজ সোর্সঃ এআই জেনারেটেড

Share on FacebookShare on Twitter

লিখেছেনঃ মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম

গত কয়েক বছরে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একটি নাম অসংখ্যবার উচ্চারণ করেছে—উমর খালিদ। কখনো প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘দেশবিরোধী স্লোগানের মাস্টারমাইন্ড উমর খালিদ কোথায়?’ কখনো তাকে বলা হয়েছে দিল্লি দাঙ্গার নেপথ্য-পরিকল্পনাকারী। পর্দায় তার মুখ দেখিয়ে বলা হয়েছে, চেহারা যত সরল, মস্তিষ্ক তত শাতির। সংবাদ উপস্থাপকেরা তার গায়ে একে একে সন্ত্রাসী, টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাংয়ের সরদার, বিদেশি অর্থপুষ্ট এজেন্ট, অ্যান্টি-ন্যাশনাল এবং আরবান নকশালের তকমা এঁটে দিয়েছেন। চিৎকার যত জোরে হয়েছে, বহু দর্শকের কাছে অভিযোগ ততই সত্যের মতো শোনায়। ফলে রাস্তায় দাঁড়ানো সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করলে সম্ভবত নিরানব্বই শতাংশই বলবেন, উমর খালিদ একজন সন্ত্রাসী এবং তার অপরাধ প্রমাণিত; নইলে তিনি তিহার জেলে কেন থাকবেন? যেন তিহারে কেউ হাওয়া খেতে যায় না। কয়েকজন সংবাদ উপস্থাপক ও সম্পাদক ব্যতিক্রম হলেও মূলধারার টেলিভিশন এই জনমত তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু এই প্রতিষ্ঠিত ধারণার পাশে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়িয়ে আছে। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ তিহার জেলে উমর খালিদ এর ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে, অথচ এত বড় কথিত মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তারের পরও তার বিরুদ্ধে মূল মামলার বিচার শুরু হয়নি। অভিযোগ যথাযথভাবে গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, রায় কিংবা জামিন—কোনোটিই মামলাটিকে নিষ্পত্তির কাছে নিয়ে যায়নি। প্রশ্ন তাই কেবল উমর খালিদের নির্দোষিতা বা দোষ নিয়ে নয়; প্রশ্ন হলো, সরকার কি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শিথিল হয়ে পড়েছে, নাকি একটি দুর্বল মামলাকে প্রকাশ্য বিচারের পরীক্ষায় আনতেই ভয় পাচ্ছে?

উমর খালিদ মামলা এবং বিচারের অপেক্ষায় বিচারব্যবস্থা
চিত্রঃ উমার খালিদ, ইমেজ সোর্সঃ এআই জেনারেটেড

রাষ্ট্রপক্ষের হাতে যদি তিন হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র এবং বিপুল ইলেকট্রনিক প্রমাণ থাকে, তবে বিচার শুরু করে দোষ প্রমাণ ও সাজা নিশ্চিত করাই স্বাভাবিক। অথচ করদাতার অর্থে একজন বিচারাধীন বন্দিকে বছরের পর বছর কারাগারে রাখা হচ্ছে। উমর খালিদ তেত্রিশ বছর বয়সে বন্দি হয়েছিলেন; এখন তার বয়স ঊনচল্লিশ। রাষ্ট্রের হাতে তথাকথিত সন্ত্রাস প্রমাণের উপকরণ থাকলেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করার দৃশ্যমান তাড়া নেই। এই বিলম্বই পুরো মামলার সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য।

একটি শক্তিশালী মামলা হলে রাজনৈতিক লাভ কোথায়

যদি উমর খালিদ সত্যিই ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার বিপজ্জনক মাস্টারমাইন্ড হন, যদি তিনি পঞ্চাশের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং সাত শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার জন্য দায়ী হন, তবে একটি উচ্চপ্রচারিত বিচার সরকারের জন্য বিরাট রাজনৈতিক সুযোগ হতে পারত। প্রাইম টাইমে প্রতিদিন শুনানির খবর চলত, টেলিভিশন স্টুডিওতে চিৎকার উঠত, এবং দোষ প্রমাণ হলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স ফর টেরর’ ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হতো। বছরের পর বছর জেএনইউ থেকে টিভি স্টুডিও পর্যন্ত যাকে দেশের বড় হুমকি বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় সরকারকে একটি বাস্তব বিজয় এনে দিত—ইনস্টাগ্রাম বা জিডিপির পরিসংখ্যাননির্ভর প্রতীকী বিজয় নয়।

কিন্তু বিচারই শুরু হচ্ছে না। তাই ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন উঠতে পারে, কি উমর খালিদকে ইচ্ছাকৃতভাবে সুরক্ষা দিচ্ছে, নাকি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নরম হয়ে গেছে? আরও গুরুতর সম্ভাবনা হলো, মূলধারার সংবাদমাধ্যমে মামলাটিকে যত শক্তিশালী দেখানো হয়েছে, আদালতে তা ততটা শক্তিশালী নয়। প্রকাশ্য বিচার শুরু হলে হয়তো এমন এক বাস্তবতা সামনে আসতে পারে, যেখানে রাষ্ট্র আইনকে দোষ প্রমাণের বদলে অনির্দিষ্টকাল আটক রাখার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তখন প্রশ্ন দাঁড়ায়: যে গণতন্ত্রে অবাধ ও ন্যায্য বিচার মৌলিক অধিকার বলে বিবেচিত, সেখানে কোনো বিচারাধীন বন্দিকে যথাযথ অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরু ছাড়াই ছয় বছর জামিনবিহীন অবস্থায় রাখা যায় কি?

শিক্ষাজীবন এবং ২০১৬ সালের জেএনইউ মামলা

উমর খালিদ এর জন্ম দিল্লির জামিয়া নগরে। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরোরি মাল কলেজে ইতিহাসে স্নাতক হন এবং পরে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তার পিএইচডির বিষয় ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে সিংভূমের আদিবাসী সমাজের রূপান্তর। এর মধ্যেও একটি তীক্ষ্ণ বৈপরীত্য আছে: যিনি ঔপনিবেশিক শাসন, তার কর্তৃত্ব ও পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন, তিনিই আজ ঔপনিবেশিক যুগের উত্তরাধিকার বহনকারী আইনি কাঠামোর অধীনে দীর্ঘদিন কারাবন্দি।

পুলিশের সঙ্গে তার প্রথম বড় সংঘাত ঘটে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেএনইউতে আফজল গুরুকে ঘিরে একটি অনুষ্ঠানের পর দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে খালিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায়, যে সাতটি ভিডিওর ওপর মামলার বড় অংশ দাঁড় করানো হয়েছিল, তার মধ্যে দুটি স্পষ্টভাবে পরিবর্তিত এবং অডিওতে কারসাজি করা। এক মাসের মধ্যে তিনি জামিন পান। পরবর্তী কয়েক বছর তিনি সংবাদ শিরোনামে থাকেন, সরকারের সঙ্গে তীব্র প্রশ্নোত্তর ও বিরোধে জড়ান, বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্রে পরিণত হন এবং তার ওপর হামলাও হয়।

২০২০ সালের গ্রেপ্তার এবং দুই মামলার ভিন্ন পরিণতি

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ দিল্লি পুলিশ উমর খালিদকে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএর অধীনে গ্রেপ্তার করে। এফআইআর ৫৯/২০২০-এ অভিযোগ ছিল, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে তিনি যুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, শাহিনবাগ আন্দোলনের সময় তিনি বৈঠক করেছিলেন, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সমন্বয় করেছিলেন এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তার বিরুদ্ধে ইউএপিএর ১৩, ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা প্রয়োগ করা হয়, যেগুলো বেআইনি কার্যকলাপ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসের অর্থায়ন ও ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭ থেকে ১৪৯ ধারায় দাঙ্গা ও বেআইনি সমাবেশ, ৩০২ ধারায় হত্যা, ১২৪এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহ, ১৫৩এ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া এবং অস্ত্র আইনের ধারাও যুক্ত হয়।

এ ছাড়া এফআইআর ১০১/২০২০-এ তার বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু সেই মামলায় সেশনস কোর্ট ২০২১ সালের এপ্রিলেই জামিন দেয় এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালত জানায়, ওই মামলায় খালিদের বিরুদ্ধে কোনো দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও এফআইআর ৫৯/২০২০-এর কারণে তিনি কারাগারেই থেকে যান। ছয় বছর ধরে বিচার শুরু না হওয়ায় তিনি একসময় বলতে শুরু করেন, তিহারই এখন তার বাড়ি।

প্রমাণের পাহাড় অথচ বিচার স্থির

এফআইআর ৫৯/২০২০-এর অভিযোগপত্র তিন হাজার পৃষ্ঠার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পূরক ইলেকট্রনিক প্রমাণের পরিমাণ নিয়ে আলোচ্য বিবরণে একাধিক সংখ্যা এসেছে—কোথাও ত্রিশ হাজার পৃষ্ঠা, কোথাও তিন হাজার পৃষ্ঠা, আবার শেষের দিকে তিনশ পৃষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে। সংখ্যার এই অসামঞ্জস্য নিজেই যাচাইযোগ্যতার প্রশ্ন তোলে; তবে প্রতিটি বর্ণনার সাধারণ দাবি একটাই—রাষ্ট্রপক্ষ বিপুল কাগজপত্র ও ডিজিটাল উপাদান জমা দিয়েছে। সন্ত্রাসের অভিযোগকে হালকাভাবে নেওয়ার প্রশ্ন নেই। কিন্তু তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ এত বিস্তৃত হলে বিচার কেন শুরু হচ্ছে না, সেটিই কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।

তুলনা হিসেবে আজমল কাসাবের বিচার সামনে আসে। ভারতের অন্যতম গুরুতর সন্ত্রাসী হামলার সেই মামলায় অভিযুক্ত ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন না; পাকিস্তানি নাগরিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রবল নজর ছিল এবং মামলায় বহু জটিলতা ছিল। তবু প্রায় দুই বছরের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আজও সাধারণভাবে বলা হয় না যে ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় কাসাব ন্যায্য বিচার পাননি। অথচ উমর খালিদের মামলায় কোনো দৃশ্যমান তাড়াহুড়ো নেই। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লি হাইকোর্ট মন্তব্য করে যে বিচার তার ‘স্বাভাবিক গতিতে’ এগোচ্ছে। সমালোচকের ব্যঙ্গ হলো, এই স্বাভাবিক গতি যদি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির গতির মতো হয়, তবে হয়তো ২০৪৭ সালে ‘বিকশিত ভারত’-এর সঙ্গে খালিদও জামিন বা সাজা পাবেন।

দুটি সমান্তরাল আদালত

উমর খালিদ এর মামলায় যেন মার্ভেল কমিকসের মাল্টিভার্সের মতো দুটি আলাদা জগৎ তৈরি হয়েছে। প্রথমটি টেলিভিশনের আদালত। সেখানে তিনি টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাংয়ের নেতা, দিল্লি দাঙ্গার মাস্টারমাইন্ড, আরবান নকশাল এবং দেশবিরোধিতার পোস্টার বয়। মূলধারার টেলিভিশনের নিয়মিত দর্শকের মনে তার সন্ত্রাসী পরিচয় নিয়ে সন্দেহের অবকাশ প্রায় নেই; সেখানে রায় যেন আগেই হয়ে গেছে।

দ্বিতীয়টি প্রকৃত আদালত, যেখানে আইনের প্রক্রিয়া বারবার মোচড় নিচ্ছে। জামিন না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন কারণ সামনে এসেছে, কিন্তু বিচার শুরু করার প্রশ্নে একই তৎপরতা দেখা যায়নি। অভিযোগের ভাষা যত জরুরি—‘জাতীয় নিরাপত্তা’, ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’, ‘পূর্বপরিকল্পিত’—বিচারের সময়সূচি ততটাই নিরুত্তাপ।

ইউএপিএর ৪৩ডি ৫ এবং উল্টে যাওয়া জামিননীতি

ইউএপিএর ৪৩ডি(৫) ধারা সাধারণ জামিন-প্রক্রিয়াকে কার্যত উল্টে দেয়। প্রচলিত ফৌজদারি বিচারনীতিতে অভিযুক্তকে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ ধরা হয় এবং ‘জামিন নিয়ম, কারাবাস ব্যতিক্রম’ নীতি অনুসৃত হওয়ার কথা। অত্যন্ত গুরুতর ঝুঁকি না থাকলে যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে জামিন পাওয়ার ধারণাই স্বাভাবিক। কিন্তু ইউএপিএ মামলায় বিচারককে প্রথমে সন্তুষ্ট হতে হয় যে অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে সত্য বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত ভিত্তি নেই। আইনি বিশ্লেষকেরা একে ভারতের কঠিনতম জামিন-মানদণ্ডগুলোর একটি বলে বিবেচনা করেন।

আইনটি মূলত ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের আটক রাখার জন্য কঠোর করা হয়েছিল। কিন্তু সমালোচনা হলো, এটি এখন অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৮ মে ২০২৬ বিচারপতি বি ভি নাগরত্না ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ অন্য একটি ইউএপিএ মামলায় জামিন দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সারা দেশে ইউএপিএ মামলায় দণ্ডের হার মাত্র ১.৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ প্রায় ৯৬ থেকে ৯৮ শতাংশ মামলায় অভিযুক্ত শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হননি। জম্মু ও কাশ্মীরে দণ্ডের হার এক শতাংশেরও কম বা প্রায় এক শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে—অর্থাৎ অভিযুক্তের খালাস পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯৯ শতাংশ। দেশের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটিতে এমন ফল দুই সম্ভাবনা দেখায়: হয় রাষ্ট্র সন্ত্রাস মোকাবিলায় যথেষ্ট পেশাদার নয়, অথবা সন্ত্রাসবিরোধী আইন এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যে তা নিজেই প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

ইউএপিএতে কাউকে গ্রেপ্তার করা রাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলক সহজ, অথচ জামিনের পর্যায়ে নিজের নির্দোষিতা প্রতিষ্ঠার ভার কার্যত অভিযুক্তের ওপর পড়ে। ফলে বিচার শেষ হওয়ার আগেই প্রক্রিয়াটি শাস্তিতে রূপ নেয়। দোষ প্রমাণের বদলে দীর্ঘ আটকই যদি বাস্তব ফল হয়, তবে আইনের উদ্দেশ্য ও প্রয়োগের মধ্যে গভীর ফাঁক তৈরি হয়।

মানবাধিকার সংস্থার আপত্তি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার

উমর খালিদ এর বন্দিত্বের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার সময়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আরও ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, খালিদের আটক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; যারা অধিকার দাবি করেন এবং মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা প্রয়োগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে দমনের বৃহত্তর ধারার অংশ এটি। সমালোচকদের মতে, সরকার এই ধরনের নাগরিক সক্রিয়তাকে সহ্য করতে চায় না।

বিবৃতিতে ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস বা আইসিসিপিআরের কথাও উল্লেখ করা হয়। এই আন্তর্জাতিক চুক্তি ন্যায্য ও দ্রুত বিচারকে প্রত্যেক অভিযুক্তের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ভারতের প্রথম জরুরি অবস্থার পর ১৯৭৯ সালে ভারত নিজেই এতে স্বাক্ষর করেছিল। বর্তমান সমালোচনার ভাষায়, দ্বিতীয় এক অঘোষিত জরুরি অবস্থার আবহে দেশ যেন সেই অঙ্গীকার ভুলে যাচ্ছে।

বিষয়টি কেবল উমর খালিদে সীমাবদ্ধ নয়। জম্মু ও কাশ্মীরে ইউএপিএ মামলায় দণ্ডের হার এক শতাংশের নিচে নেমে গেলেও মানুষ বছরের পর বছর কারাগারে থাকছেন। রাষ্ট্র যদি সত্যিই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীল হয়, তবে দ্রুত বিচার করে দোষ প্রমাণ করা উচিত; এতে দণ্ডের হারও উন্নত হবে। কিন্তু আইন যদি দোষী সাব্যস্ত করার পরিবর্তে মানুষকে আটক রেখে ক্ষয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে প্রক্রিয়াই শাস্তি হয়ে দাঁড়ায়, আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সুনাম প্রতিদিন ক্ষয়ে যায়।

উমর খালিদের বিরুদ্ধে ঠিক কী প্রমাণ

খালিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কী এবং তিনি ঠিক কোন বেআইনি কাজটি করেছেন—এই প্রশ্ন করলে কর্তৃপক্ষ যেন বলে, ‘এই হিসাবের মধ্যে যাবেন না।’ ছয় বছরেও কেন বিচার শুরু হয়নি, সে প্রশ্নের জবাবও প্রায়শই এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ অস্বস্তি শুধু অভিযুক্তের নয়; জামিনের প্রসঙ্গ উঠলেই বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরেও যেন সংকোচ দেখা যায়। তার একাধিক জামিন আবেদনের ইতিহাস নিজেই ‘তারিখের পর তারিখ’-এর একটি কাহিনি, যাকে ভবিষ্যতে সিনেমায় রূপ দেওয়া সম্ভব বলেও ব্যঙ্গ করা হয়েছে—সম্ভবত কোনো ‘ধুরন্ধর’ ধরনের ছবি।

২০২২ সালের প্রথম জামিন প্রত্যাখ্যান

কয়েক মাস শুনানির পর ২৪ মার্চ ২০২২ অতিরিক্ত সেশনস জজ অমিতাভ রাওয়াত প্রথম জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মামলা দাঁড়ায়। ১৮ অক্টোবর ২০২২ দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সিদ্ধার্থ মৃদুল ও বিচারপতি রজনীশ ভাটনাগরও জামিন নাকচ করেন এবং বলেন, প্রাথমিকভাবে ইউএপিএর অধীনে গুরুতর অভিযোগের মামলা তৈরি হয়েছে।

১২ ডিসেম্বর ২০২২ খালিদ কেবল সাত দিনের অন্তর্বর্তী জামিন পান, বোনের বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য। জামিনের সঙ্গে ছিল কঠোর শর্ত ও কার্যত মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ। এখানে সমালোচকের প্রশ্ন: যে মানুষকে এত বিপজ্জনক বলা হচ্ছে, তিনি পারিবারিক বিয়ের জন্য সাময়িকভাবে নিরাপদ হয়ে যান কীভাবে? বিচারব্যবস্থা তাকে ন্যায়ের চূড়ান্ত বিবেচনায় মুক্ত করেনি, কিন্তু একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য মুক্তি দিয়েছে—এই বৈপরীত্য মামলার রাজনৈতিক ও আইনি চরিত্রকে আরও প্রকট করে।

সুপ্রিম কোর্টে বারবার মুলতবি এবং আবেদন প্রত্যাহার

২০২৩ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। ২৪ জুলাই ২০২৩ আদালত জানায়, উমর খালিদের জামিন আবেদন নির্ধারণ করতে এক-দুই মিনিটের বেশি লাগবে না এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অযথা প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সেই এক-দুই মিনিট আর আসে না। মে ২০২৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত শুনানি বারবার মুলতবি হয়—বর্ণনায় মোট বারোবার স্থগিতের কথা বলা হয়েছে। অল্ট নিউজ আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে জানায়, এর মধ্যে মাত্র দুটি মুলতবি খালিদের আইনজীবীদের অনুরোধে হয়েছিল; বাকিগুলো রাষ্ট্রপক্ষ, উভয় পক্ষের যৌথ অনুরোধ অথবা বেঞ্চের কারণে হয়।

পরবর্তীতে সাবেক প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, অন্তত সাতটি মুলতবি খালিদের আইনজীবীদের অনুরোধেই হয়েছিল—যেন খালিদ নিজেই কারাগারে থাকতে চাইছেন। অল্ট নিউজ একটি তথ্য-যাচাই প্রকাশ করে এই দাবি ভুল বলে দেখায়। অ্যামনেস্টির হিসাব অনুযায়ী, এগারো মাসে চৌদ্দবার মুলতবি হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এখানে বারো ও চৌদ্দ—দুটি সংখ্যা ভিন্ন পরিসর বা গণনার ইঙ্গিত দেয়; উৎসে উভয়টিই ব্যবহৃত হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’র কথা বলে আবেদন প্রত্যাহার করেন, যাতে ট্রায়াল কোর্টে নতুনভাবে চেষ্টা করা যায়। কারও কারও মতে, এই প্রত্যাহার সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থার সংকটকেও প্রতিফলিত করে।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের নতুন আবেদন ও বিচারকের সরে দাঁড়ানো

২৮ মে ২০২৪ সেশনস জজ সমীর বাজপেয়ী নতুন জামিন আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রমাণকে যথেষ্ট বলে বিবেচনা করেন। যদি প্রমাণ যথেষ্ট হয়, স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল দ্রুত বিচার ও দোষ প্রমাণের দিকে অগ্রসর হওয়া। কিন্তু তা ঘটেনি। সমালোচকের ভাষায়, পুরো প্রক্রিয়া যেন ‘ফকিরি মোডে’ চলতে থাকে।

২ জুলাই ২০২৪ দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অমিত শর্মা নিজেকে মামলা থেকে প্রত্যাহার বা রিকিউজ করেন। ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত বিচারপতি নবীন চাওলা ও বিচারপতি শালিন্দর কৌরের বেঞ্চে দীর্ঘ বন্দিত্ব নিয়ে যুক্তি শোনা হয়। বলা হয়, বিচার না করে এত দীর্ঘ সময় আটক রাখা ন্যায্য নয়। তবু ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ হাইকোর্ট আবার জামিন নাকচ করে। আদালত মামলাটিকে পূর্বপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করে এবং বিপুল অভিযোগপত্র ও ইলেকট্রনিক প্রমাণের উল্লেখ করে। আদালত আরও বলে, শুধু বিলম্বের ভিত্তিতে জামিন দেওয়া যায় না। সমালোচকের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া ছিল: পাঁচ বছরই বা কী, যখন নাগরিকেরা ‘অচ্ছে দিন’-এর জন্য ২০৪৭ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত!

১১ ডিসেম্বর ২০২৫ উমর খালিদ আবার তার বোনের বিয়ের জন্য চৌদ্দ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন পান। একই প্রশ্ন আবার ফিরে আসে: যাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ভয়ংকর বলা হয়, তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় নিরাপদ, অথচ স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেই রাষ্ট্রের জন্য বিপদ—এই যুক্তি কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

২০২৬ সালের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত

৫ জানুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেয়। উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের সঙ্গে মামলায় থাকা আরও পাঁচ সহ-অভিযুক্ত—গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা-উর-রহমান, মোহাম্মদ সেলিম খান এবং শাদাব আহমেদ—বারোটি শর্তে জামিন পান। কিন্তু খালিদ ও শারজিলকে ষড়যন্ত্রের ‘স্থপতি’ বা আর্কিটেক্ট হিসেবে বর্ণনা করে জামিন দেওয়া হয়নি। আদালত শর্ত দেয়, এক বছর পার হওয়ার আগে অথবা কোনো সুরক্ষিত সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের আগে তারা পুনরায় জামিন চাইতে পারবেন না। অর্থাৎ ওই সময়ে নতুন জামিন আবেদনের পথ বন্ধ থাকে।

১৩ জুন ২০২৬ একটি নতুন আবেদন করা হয়। ৪ জুলাই ২০২৬ সেশনস কোর্ট তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে খারিজ করে, কারণ জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট আরোপিত এক বছরের নিষেধাজ্ঞা তখনও কার্যকর ছিল। আদালত প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে জামিন না-ও দিতে পারে; কিন্তু তখন প্রশ্ন আরও তীব্র হয়—মামলা এত শক্তিশালী এবং অভিযুক্তেরা যদি সত্যিই ষড়যন্ত্রের স্থপতি হন, তবে বিচার কেন স্থবির? কেন প্রতিদিন শুনানি হচ্ছে না?

বিচারকেরা কি রাজনৈতিকভাবে ভারী মামলা এড়াচ্ছেন

এই দীর্ঘ ঘটনাপ্রবাহ আরেকটি প্রশ্ন তোলে: বিচারবিভাগের কিছু সদস্য কি মামলাটি থেকে দূরে থাকতে চাইছেন? বিচারপতি অমিত শর্মা নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেছিলেন জামিন নির্ধারণে দুই মিনিট লাগবে, অথচ সিদ্ধান্ত বারবার পিছিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ভারী এই মামলায় যেদিকেই রায় যাক, বিচারকের নাম ইতিহাসে যুক্ত হবে। সেই চাপ কি বিচারিক অনীহার একটি কারণ? নিশ্চিত উত্তর নেই, কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ প্রশ্নটিকে অযৌক্তিক হতে দেয় না।

উমর খালিদ এর জামিনের বিরোধিতায় ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’-এর মতো বড় শব্দ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বিচার শুরু করার ক্ষেত্রে সেই জরুরি মনোভাব অনুপস্থিত। জাতীয় নিরাপত্তা সত্যিই এত গুরুতর হলে মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে নেওয়া, প্রতিদিন শুনানি করা এবং প্রমাণ যাচাই করে দ্রুত রায় দেওয়াই যুক্তিসঙ্গত। রাষ্ট্রপক্ষের হাতে হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি থাকলে নিয়মিত শুনানি না হওয়ার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা এখনো সামনে আসেনি।

রাষ্ট্র কেন উমর খালিদকে ভয় পেতে পারে

সমালোচনার চতুর্থ প্রশ্নটি রাজনৈতিক: সরকার উমর খালিদকে এত ভয় পায় কেন? তার পরিচিত প্রোফাইল হয়তো সম্ভাব্য উত্তর দেয়—তিনি তরুণ, মুসলিম, উচ্চশিক্ষিত, জেএনইউ থেকে পিএইচডিধারী, ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী ও স্পষ্টভাষী এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পরিচিত। এই সংমিশ্রণ প্রতিষ্ঠানের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। যুক্তি ও ভাষায় যাকে সহজে নীরব করা যায় না, তাকে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় রাখার প্রলোভন তৈরি হতে পারে। এই ব্যাখ্যা একটি রাজনৈতিক অনুমান, প্রমাণিত বিচারিক সত্য নয়; তবে সমালোচকের মতে, ছয় বছরের বন্দিত্ব বোঝার ক্ষেত্রে এটি উপেক্ষা করা যায় না।

ঔপনিবেশিক বিচার ও আন্তর্জাতিক তুলনা

ব্রিটিশ শাসন ভারতীয়দের ওপর অসংখ্য নির্যাতন চালিয়েছে এবং বহু প্রাণ কেড়েছে। তবু ১৯২৯ সালে ভগৎ সিং, রাজগুরু ও সুখদেবকে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারের পর, প্রদর্শনমূলক হলেও, একটি বিচার হয়েছিল এবং দুই বছরের মধ্যে সাজা ঘোষণা করা হয়। বর্তমান সমালোচনা হলো, এখন সেই দেখনদারিরও প্রয়োজন বোধ করা হচ্ছে না; কাউকে জেলে ঢুকিয়ে রাখাই যথেষ্ট, কারণ টেলিভিশন মানুষকে বিশ্বাস করিয়ে দিয়েছে যে বিচার সম্পন্ন এবং অভিযুক্ত সন্ত্রাসী।

ভারতীয় ব্যবস্থার একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি যুক্তরাজ্যের আইন। যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসবাদ আইন কঠোর বলে পরিচিত, তবু কোনো সন্ত্রাস-সন্দেহভাজনকে অভিযোগ গঠন ছাড়া চৌদ্দ দিনের বেশি আটক রাখা যায় না; তারপর পূর্ণ অভিযোগ আনতে হয় অথবা মুক্তি দিতে হয়। ভারতের আলোচ্য মামলায় একজন মানুষ ছয় বছর ধরে কারাগারে, অথচ টেলিভিশন স্টুডিওই কার্যত আদালতে পরিণত হয়েছে। এমন অবস্থায় কেউ কেউ বলবেন, বিচারের কী প্রয়োজন—অপরাধ তো স্পষ্ট। কিন্তু এই মনোভাবই গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক।

বিচারবিলম্ব এবং দেশের অর্থনৈতিক সুনাম

এই প্রহসন ধীরে ধীরে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষয় করছে এবং গণতন্ত্রকে হাস্যকর করে তুলছে। বিশ্ব দেখছে যে ভারতের আইনি প্রক্রিয়ায় সময় ও নিয়মের নিশ্চয়তা দুর্বল। আন্তর্জাতিক কোম্পানিও ভারতে প্রতিষ্ঠান গড়ার আগে দ্বিধায় পড়তে পারে, কারণ কোন আইন কখন বদলাবে এবং কোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে কত বছর লাগবে, তার নির্ভরযোগ্য পূর্বানুমান নেই। সুতরাং উমর খালিদের মামলা কেবল নাগরিক স্বাধীনতার বিষয় নয়; বিচারব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে—এটি লেখাটির বৃহত্তর দাবি।

দৈনিক শুনানি ও সময়বদ্ধ বিচারের নজির

২৪ মে ২০২৬ জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টের বিচারপতি ওয়াসিম সাদিক নার্গাল, আসিফ বিল্লা শেখ বনাম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর নামে অন্য একটি ইউএপিএ মামলার শুনানিতে বলেন, বিচার ছাড়া দীর্ঘ কারাবাস অন্যায়; এতে প্রক্রিয়াই শাস্তিতে পরিণত হয়, যা আইন অনুমোদন করে না। তিনি জাতীয় তদন্ত সংস্থা আইন বা এনআইএ আইনের ১৯ ধারার কথাও বলেন। এই ধারা গুরুতর মামলায় প্রতিদিন শুনানি এবং অন্য ফৌজদারি মামলার তুলনায় অগ্রাধিকারমূলক বিচার নির্দেশ করে।

অন্য একটি ইউএপিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জামিন প্রত্যাখ্যান করেও ট্রায়াল কোর্টকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শুনানি করতে এবং আদালতের ছুটি থাকুক বা না থাকুক তিন মাসের মধ্যে মামলা শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। অর্থাৎ সময়বদ্ধ ও অগ্রাধিকারমূলক বিচারের নজির ইতিমধ্যে আছে। এখন প্রশ্ন হলো, একই মানদণ্ড উমর খালিদের মামলায় প্রয়োগ করা হবে কি না।

দিল্লি পুলিশ ও রাষ্ট্রপক্ষ এনআইএ আইনের ১৯ ধারার নীতির আলোকে প্রতিদিন শুনানির পক্ষে যুক্তি দিতে পারে; এমনকি এনআইএকে সরাসরি যুক্ত করারও প্রয়োজন নেই, যদি মামলাটি সত্যিই শক্তিশালী হয়। আদালত নিজেও জম্মু ও কাশ্মীরের নজিরের মতো সময়বদ্ধ বিচারের আদেশ দিতে পারে। দোষী হলে প্রমাণ প্রকাশ্যে যাচাই করে কঠোর সাজা দেওয়া উচিত। আর দোষী না হলে তার জীবন, জেএনইউর পিএইচডির পর হারিয়ে যাওয়া কর্মজীবন এবং পরিবারের সঙ্গে হারানো সময়ের জন্য স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন বিবেচনা করা উচিত।

শেষ প্রশ্ন বিচারাধীন কে

এই প্রবন্ধের অবস্থান উমর খালিদকে আগাম নির্দোষ ঘোষণা করা নয়। মূল কথা সরল: তিনি দোষী হলে রাষ্ট্র প্রমাণ করুক এবং আদালত যথাযথ কঠোর সাজা দিক। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের নামে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনকে উপহাসে পরিণত করা যায় না। আদালত যে রায়ই দিক, তা প্রকাশ্য, ন্যায্য এবং যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে হওয়া দরকার। আলোচ্য ভাষ্যকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রায়ের দিন ফল যাই হোক, তার সংবাদমাধ্যম প্রথম দিকের একটি পূর্ণাঙ্গ পর্ব তৈরি করবে।

এখন দেখার বিষয়, সুপ্রিম কোর্ট ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আরোপিত ‘এক বছর অপেক্ষা’ শর্ত প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনা করে কি না। কারণ এই মামলায় এখন কেবল উমর খালিদ বিচারের অপেক্ষায় নেই; ভারতীয় বিচারব্যবস্থাও জনসমক্ষে বিচারের মুখে। আদালতের আচরণ ও রায় নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই সময়কে কীভাবে স্মরণ করবে। ভারতের প্রথম জরুরি অবস্থায় আদালতের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছিল, সেটি ছিল বিচারব্যবস্থার ‘অন্ধকারতম সময়’। আজ প্রশ্ন হলো, সেই ভীতিকর অন্ধকার কি আবার আদালতের ওপর নেমে আসছে?

Post Views: 12
Tags: BailCivil LibertiesDelayed TrialDelhi High CourtDelhi RiotsHuman RightsIndian JudiciaryMedia TrialPolitical PrisonerRule of LawSupreme CourtTihar JailUAPAUmar Khalidআইনের শাসনইউএপিএউমর খালিদতিহার জেলদিল্লি দাঙ্গাদিল্লি হাইকোর্টনাগরিক স্বাধীনতাভারতীয় বিচারব্যবস্থামানবাধিকারমিডিয়া ট্রায়ালরাজনৈতিক বন্দিসুপ্রিম কোর্ট
ADVERTISEMENT

Related Posts

বাংলা ভাগে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা: ইতিহাস ও বিতর্ক
ভারতবর্ষের ইতিহাস

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলা ভাগে ভূমিকা: ইতিহাস ও বিতর্ক

লিখেছেনঃ মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম ২৩ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। প্রতি বছর এই দিনটি ঘিরে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে নতুনভাবে...

by মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম
August 22, 2026
এসআইআর (SIR) : ভারতীয় গণতন্ত্রের সংকট
রাজনীতি

এসআইআর (SIR) : ভারতীয় গণতন্ত্রের সংকট

লিখেছেনঃ মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম রাষ্ট্র যখন কোনো নীতিকে “প্রশাসনিক প্রক্রিয়া” বলে ঘোষণা করে, তখন সেটি প্রায়শই নাগরিককে আশ্বস্ত করার...

by মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম
September 7, 2026
গোপাল পাঁঠা : ইতিহাসের অন্ধকারে এক বিতর্কিত চরিত্র
ভারতবর্ষের ইতিহাস

গোপাল পাঁঠা : ইতিহাসের অন্ধকারে এক বিতর্কিত চরিত্র

লিখেছেনঃ মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম কলকাতার বউবাজারের মঙ্গলা লেনে জন্মেছিলেন গোপাল পাঁঠা ওরফে গোপাল চন্দ্র মুখোপাধ্যায়। পারিবারিক পেশা ছিল পাঁঠার...

by মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম
August 24, 2025
RAW-কে নিষিদ্ধ করার পিছনে আমেরিকা উদ্দেশ্য কি?
রাজনীতি

RAW-কে নিষিদ্ধ করার পিছনে আমেরিকা উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেনঃ মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম সাম্প্রতিক কালে ভারতের বৈদেশিক গুপ্তচর সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’— সংক্ষেপে ‘র’ (RAW) —কে কেন্দ্র...

by মুহাম্মাদ আব্দুল আলিম
June 25, 2025

Facebook Page

নবজাগরণ

ADVERTISEMENT
No Result
View All Result

Categories

  • English (9)
  • অন্যান্য (11)
  • ইসলাম (28)
  • ইসলামিক ইতিহাস (23)
  • ইহুদী (3)
  • কবিতা (37)
  • খ্রিস্টান (6)
  • ছোটগল্প (6)
  • নাস্তিকতা (20)
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (24)
  • বিশ্ব ইতিহাস (26)
  • ভারতবর্ষের ইতিহাস (203)
  • রাজনীতি (42)
  • সাহিত্য আলোচনা (74)
  • সিনেমা (18)
  • হিন্দু (19)

Pages

  • Cart
  • Checkout
    • Confirmation
    • Order History
    • Receipt
    • Transaction Failed
  • Checkout
  • Contact
  • Donation to Nobojagaran
  • Homepage
  • No Access
  • Order Confirmation
  • Order Failed
  • Privacy Policy
  • Purchases
  • Services
  • লেখা পাঠানোর নিয়ম
  • হোম

  • jasa gestun terdekat
  • https://www.harikami.id/
  • https://premiumnesia.id/
No Result
View All Result
  • মূলপাতা
  • ইতিহাস
    • ইসলামিক ইতিহাস
    • ভারতবর্ষের ইতিহাস
    • বিশ্ব ইতিহাস
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • খ্রিস্টান
    • হিন্দু
    • ইহুদী
    • অন্যান্য ধর্ম
  • নাস্তিকতা
  • রাজনীতি
  • সিনেমা
  • সাহিত্য
    • কবিতা
    • ছোটগল্প
    • উপন্যাস
    • সাহিত্য আলোচনা
  • অন্যান্য
  • ই-ম্যাগাজিন
    • নবজাগরণ (ষাণ্মাসিক) – জীবনানন্দ ১২৫ তম জন্ম সংখ্যা – মননশীল সাহিত্য পত্রিকা
  • Others Language
    • English
    • Urdu
    • Hindi

©Nobojagaran 2020 | Designed & Developed with ❤️ by Adozeal

Login to your account below

Forgotten Password?

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
নবজাগরণ - জ্ঞান অর্জনের বিস্বস্থ সংস্থা নবজাগরণ - জ্ঞান অর্জনের বিস্বস্থ সংস্থা
Welcome back
Sign In
Sign in to access your downloads, manage your account, and continue where you left off.
Login Account
Enter your credentials to access your account
Forgot Password?
Don't have an account? Register Now
1
WhatsApp
Hi, how can I help you?
Open chat
Powered by Joinchat
wpDiscuz
0
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x
| Reply